সেও ভালোবাসে (পর্ব-০৬)

সেও ভালোবাসে (পর্ব-০৬)
...
" দড়িটা তো পুলিশ হেফাজতে গত সাতদিন ধরে, আর সাদমান খুন হলো কয়েকদিন হয়েছে মাত্র। তাহলে হাত বাঁধার দাগে এই দড়ির ছাপ আসলো কীভাবে? "
থানার উদ্দেশ্যে গাড়ি চলছে।
" সাদমানের হাতে বাঁধ দেয়া দড়ির ছাপ পাওয়া গিয়েছে, যা অরুণিমার কাপড় টানানোর দড়িটার ছাপের সাথে হুবহু মিল!"
ওসি আতিকের থেকে কথাটা শোনার পর সময়ের গতিবেগ যেন ধীর হয়ে গিয়েছে, থানায় পৌঁছাতে সময় বেশি লাগছে মনে হচ্ছে। থানার উদ্দেশ্যে গাড়ি চলছে, গোয়েন্দা নিলের মুখে তেমন কথা নেই। তখন শুভ গোয়েন্দা নিলের উদ্দেশ্যে উপরের প্রশ্নটি করে৷
নিল জবাব দেয়, " খুনী অনেকেই হতে পারে। এই দড়ির কিছু অংশ অরুণিমাদের বাসায় থাকতে পারে। অথবা পুলিশ হেফাজতের আড়ালে কেউ সেই দড়িটা ব্যবহার করতে পারে। আমাদের সন্দেহ এখন সবাইকে করতে হবে, কারণ খুনি কে বা কারা তা আমরা জানি না। "
শুভ মনযোগ সহকারে নিলের কথাগুলো শুনে। ততক্ষণে গাড়ী এসে পৌঁছে গিয়েছে থানার নিকটে।
পলিথিনে রাখা নাইলনের দড়িটা শুভ হাতে নিয়ে তারপর বলে, " এটাতে তো হালকে রক্ত দেখা যাচ্ছে! "
ওসি আতিক জবার দেয়, " সাদমানের রক্তাক্ত হাত বেঁধেছিল বোধহয় তাই। "
আতিকের কথা শুনে পাশ থেকে গোয়েন্দা নিল বলে, " সাদমান যখন খুন হয় তার ঠিক পাঁচদিন আগে তো দড়িটা আপনাদের হেফাজতে ছিল! তাহলে দড়িটায় রক্তের দাগ আসে কী করে? "
ওসি আতিকের খেয়াল হয়, নিল তো ঠিকই বলছে। এবার বেশ অবাক হয়ে বলে, " আরে! এটা কী করে সম্ভব? "
নিল জবাব দেয়, " অবশ্যই এই ঘটনার পেছনে কিছু একটা রহস্য অবশ্যই আছে। "
" যতবার সমস্যা পড়েছি, ঠিক ততবারই তোমরা আমাকে সাহায্য করেছিলে৷ এবারও তোমরা পারবে আমি আশা করি। "
গোয়েন্দা নিল কথা বাড়ায় না আর। মনেমনে ভাবে, বিষয়গুলো একদম গুলিয়ে যাচ্ছে।
সজীব বেশ অনেকদিন ধরে বাসা থেকে অকারণে বের হয় না। আগে নানান বাহানায় সারাদিন অরুণিমাদের বাসার চারিপাশে ঘুরঘুর করতো সে৷ কী যেন ভেবে সজীব বাসা থেকে বের হয়। রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে অরুণিমাদের বাসার দিকে তাকিয়ে আছে সে৷ হঠাৎ ঘরের কোণে থাকা জামগাছের দিকে নজর যায় সজীবের। গাছটার গোড়ায় গিয়ে দাঁড়ায় সে। গাছটাতে লক্ষ্য করে সজীব, প্রায় বুক সমান উঁচুতে গাছের বাকল এঁড়িয়ে ইংরেজি অক্ষরে লেখা, "AS" লেখাটার মানে যে অরুণিমা আর সজীব তা বুঝতে সমস্যা হয়নি কোনো।
সজীব উঠোনের এক কোণে গিয়ে দাঁড়ায়। সে প্রতিদিন দুপুরে এখানে দাঁড়ালেই দরজা অথবা জানালার আশেপাশে দেখতে পেতো অরুণিমাকে। তবে আজ কোথাও দেখতে পাচ্ছে না তাকে, হৃদয় জুড়ে বিষন্নতা গ্রাস করছে সজীবের৷ সজীব চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে, দেখতে একদম নিথর প্রায়৷ তখন পেছনে কাদের মিয়ার উপস্থিতি উপলব্ধি করে সজীব। সে ভেবে নেয়, এখন আবারও চাচার ঝাড়ি শুনতে হবে হয়তো। কিন্তু সজীবকে অবাক করে দিয়ে কাদের মিয়া বলেন, " যা, ঘরে গিয়ে বস।"
সজীব কিছু না বলে কাদের মিয়ার পিঁছুপিঁছু বাসায় প্রবেশ করে, সোজা চলে যায় অরুণিমার রুমে।
অরুণিমার রুমে এই প্রথম এসেছে সজীব। আগে বারান্দায় দাঁড়িয়ে কথা বলা কিংবা জানালার ধারে উঁকি দেওয়াতেই সীমাবদ্ধ ছিল সে।
খাটের উপর বসে পড়ে সে, সারারুমে চোখ বুলায়৷
" অরুণিমার ডায়রিতে তোমার নাম, বিন্দুর টেবিলে ক্লথের নিচে তোমার বন্ধু বাধনের ছবি। "
হঠাৎ গোয়েন্দা নিলের কথাগুলো মাথায় আসতেই সজীবের মনে হয়, " আরে! আরু তো আমাকে নিয়ে ডায়রি লিখেছে তাহলে। "
সাতপাঁচ না ভেবে রুমে খুঁজতে থাকে অরুণিমার লেখা ডায়রিটা। খুঁজতে খুঁজতে ডায়রিটা পেয়ে যায় সজীব, টেবিলের একদম ভেতরে দিকে ছিল এটা। সাধারণত প্রতিটা মেয়েরই ডায়রি লেখার অভ্যাস থাকে৷ নির্দিষ্ট কিছু ভালোলাগা উপস্থাপন করে থাকে ডায়রিতে। আবার কেউবা উপস্থাপন করে তার প্রিয় মানুষের সাথে কাটানো সময় কিংবা ভালোবাসার মানুষকে বলা হাজারো অনুভূতি। শত-সহস্র প্রেমিক/প্রেমিকা থাকে, যাদের ভালোবাসা ডায়রিতেই সীমাবদ্ধ। প্রকাশ পায় না বাহ্যিক রূপে৷ সজীব ডায়রিটা নিয়ে বসে পড়ে খাটের উপর। কী আছে এতে দেখার বড্ড আকাঙ্ক্ষা তার মনে।
ডায়রির প্রথম পৃষ্ঠাতে লেখা, " ভালোবাসি অনুভূতিকে। "
পৃষ্ঠা উল্টে ডায়রিটা পড়তে শুরু করে সজীব।
নিল, শুভ এবং ওসি আতিক তিনজনই বেশ চুপচাপ বসে আছে থানায় রাখা চেয়ারগুলোতে। ওসি নীরবতা ভেঙে নিল'কে প্রশ্ন করে, " তো কীভাবে পথ আগানো যায়, ভেবেছো কিছু? "
নিল শুভ'র দিকে তাকিয়ে বলে, " তুমি কিছু ভেবেছো?"
" আমার তো মনে হচ্ছে অরুণিমার সাথে বাকি দুটো খুনেরও মিল আছে। "
ওসি আতিক জবাব দেয়, " হ্যাঁ, শরীফের বুকপকেটের চিঠিটা তাই বলছে। অরুণিমার হাতে মরার ভয়ে সে আত্মহত্যা করেছে। "
নিল একগাল হেসে মুখ খুলে, " আদৌ কি কোনো মরা মানুষ কাউকে খুন করতে পারে? "
" স্যার, আপনি কি আত্মাতে বিশ্বাস করেন না? "
শুভ'র প্রশ্নে মুচকি হেসে নিল বলে, " আত্মা আছে এটা সত্যি। তবে আত্মারা যে মানুষ হত্যা করবে সেটা আমার ভাবনার বাহিরে৷ বিশ্বাস করতে হলে আমাকে এই বিষয়ে প্রমাণ পেতে হবে। "
শুভ আর আত্মার ব্যাপারে কথা বাড়ায় না। ওসি আতিক পূর্বের ন্যায় আবারও বলে, " তো কী করবে এখন? "
" এই তিনটে খুন একটার সাথে আরেকটার সামঞ্জস্য বিদ্যমান। একটা সমস্যা সমাধানের সামান্য চিহ্ন পাওয়া মানে তিনটা সমস্যারই একটুখানি পথ আগানো। "
নিলের এমন প্যাঁচানো কথায় পাত্তা না দিয়ে ওসি বলে, " যা-ই করো, আরেকটা খুন হওয়ার আগে করতে হবে৷"
নিল অবাক হয়ে বলে, " আরেকটা খুন হবে, তা আপনি কী করে জানেন? "
" শরীফের চিঠিটা দেখে বুঝা যায়, সম্ভবত অরুণিমার ধর্ষণে সাদমান এবং শরীফ জড়িত ছিল৷ অরুণিমাকে ধর্ষণ করেছে চারজন মিলে। যদি আমাদের সন্দেহ সত্যি হয় তাহলে আরও দুইজন খুন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। "
নিল কী যেন ভাবতে ভাবতে বলে, " হ্যাঁ, ভাববার বিষয় তো! "
তারপর শুভ'কে উদ্দেশ্য করে বলে, " শুভ, চলো আমার সাথে৷ "
নিলের পিঁছুপিঁছু শুভ গিয়ে বসে পড়ে গাড়িতে।
অরুণিমা নামটাকে সবাই সংক্ষেপে অরু ডাকলেও তিনি আমাকে ভালোবেসে আরু ডাকেন। লোকটা আমাকে অনেক ভালোবাসেন সেটা আমি হারে-হারে টের পাচ্ছি৷ তবে লোকটা কিছুতেই বুঝে না আমিও উনাকে ভালোবাসি। উনি হয়তো জানেন না, আমি উনাকে ভালোবাসি কি না। উনার কথাগুলো বেশ ভালো লাগে আমার৷ আমার পিঁছু পড়ে থাকে সারাক্ষণ, সেটা আমি বুঝতে পারি৷ তবে আমি বুঝেছি, তা কোনোমতেই টের পেতে দিই না উনাকে। বিভিন্ন বাহানায় বাসায় আসাটা মন্দ লাগে না আমার। বিশেষত প্রতি দুপুরে উনার বোকামিগুলো ভালো লাগে আমার৷ আমি উনার চোখ দেখি, চোখের কথা গুলোও পড়তে পারি স্পষ্টভাবে। উনি আমার চোখ দেখেন, শুধু এটাই বুঝেন আমি উনাকে ভালোবাসি না৷ উনি আমার চোখ দেখে কিছু পড়তে পারেন না, কারণ উনার তো তৃতীয় নয়ন বলতে কিছুই নেই। মনের কথাগুলো পড়তে তৃতীয় নয়নের প্রয়োজন হয়, যা ছেলেদের থাকে না বললেই হয়৷ প্রতিটা মেয়ের মধ্যে এই তৃতীয় নয়নের ক্ষমতাটি থাকে৷ তারা বুঝতে পারে, কে তাকে পছন্দ করলো, আবার কে তাকে দেখতে পারছে না কিছুতে৷ বিশেষ করে এই তৃতীয় নয়ন ছেলেদের ব্যাপারে এগিয়ে৷ কোনো ছেলে একটা মেয়েকে ভালোবাসলে মেয়েটা আগেই টের পেয়ে যায়, কারণ ছেলেটা তার সামনে আসলে তাকে পড়ার ক্ষমতা মেয়ের আছে৷ আমিও সজীবের সবকিছু পড়ে ফেলেছি, তবে উনার অজান্তেই৷
- সজীব দুইটি পৃষ্ঠা উল্টে ফেলেছে টেরও পায়নি। এতে কী আছে সব পড়ার পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা তার৷ পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে তাদের কাটানো মূহুর্তগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করে রেখেছি অরুণিমা৷ সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা কোনো সময়ের কথাই বাকি রাখেনি অরুণিমা। ডায়রির শেষ পৃষ্ঠাতে চোখ বুলাতে সজীব দেখে শেষ লাইনে লেখা, " হ্যাঁ, আমিও ভালোবাসি। "
সজীব হালকা স্বরে বলে উঠে, " সেও ভালোবাসে! "
ডায়রিটা হাতে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে পড়ে সজীব, কাদের মিয়া এবং তার স্ত্রী তাকে দেখলেও কোনো কথা বলেনি।
গোয়েন্দা নিল এবং শুভ গাড়িতে চড়ে আসছে সজীবের বাসার উদ্দেশ্যে৷ সজীবদের বাসার কাছে আসতেই নিল লক্ষ্য করে সজীব রাস্তা পেরুচ্ছে, হাতে একটা ডায়রি। গাড়ি থামিয়ে নিল সজীবকে উদ্দেশ্য করে বলে, " জানতাম, তুমি ডায়রিটার জন্য অরুণিমার বাসায় যাবে। এইজন্য সেটা ঠিক আগের জায়গায় রেখে দিয়েছিলাম।"
সজীব জবান দেয়, " ধন্যবাদ। "
নিল আবারও বলে, " তোমাদের বাসায় এক কাপ কফির দাওয়াত দেয়া যাবে? "
সজীব একগাল হেসে বলে, " আসুন। "
বাসায় নিল আর শুভ ঢুকে পড়ে সজীবের পিঁছুপিঁছু।
সোফায় বসতে বসতে নিল সজীবকে প্রশ্ন করে, " অরুণিমা কেমন আছে? "
সজীব অবাক হয়ে তাকায় নিলের দিকে৷ জবাব দেয়, " কী যা-তা বলছেন! আরু তো মারা গিয়েছে সাতদিন হলো। "
" সে আমাদের কাছে মারা গিয়েছে, তবে তোমার আশেপাশে ঘুরঘুর করে সবসময়। কারণ ভালোবাসা'রা কখনো কাউকে ছেড়ে দেয় না সহজে। "
নিলের কথা শুনে সজীব বলে, " অযথা কোনো তর্কে জড়াতে চাই না আমি৷ "
ততক্ষণে সজীবের মা কফি নিয়ে হাজির। শুভ সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে, " আজ কফি খাওয়ার ইচ্ছে আমার নেই, আমি কি বাসাটা একটু ঘুরে দেখতে পারি? "
সজীবের মা হাসিমুখে বলে, " আচ্ছা, যাও তাহলে৷ "
নিল কফিতে চুমুক দিতে দিতে সবার সাথে অন্য বিষয়ে কথা বলতে শুরু করে, আড্ডায় মেতে উঠে বেশ। খানিক্ষণ আড্ডা দেয়ার পর শুভ ফিরে আসলে নিল সজীবের মা'কে উদ্দেশ্য করে বলে, " আচ্ছা! তাহলে আজ আমরা উঠি? "
সজীব এবং তার মায়ের থেকে বিদায় নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে নিল এবং শুভ৷
গাড়িতে বসতেই নিল শুভকে প্রশ্ন করে, " সব ঠিকঠাক তো? "
শুভ একটা হাসি দিয়ে বলে, " সময় হলেই দেখতে পারবেন। "
নিল আর কথা না বাড়িয়ে চলে নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে৷
সন্ধ্যা।
নিল আর শুভ দুজন নাস্তা সেরেছে সবেমাত্র। নিল এবং শুভ'র পরবর্তী কাজ কীভাবে করবে তা নিয়েই আলোচনা করছে দুজন। হঠাৎ কলের টিউনে ব্যাঘাত ঘটে আলোচনায়।
ওসি আতিকের কল।
শুভ'কে থামতে বলে নিল কল রিসিভ করে, " এইমাত্র শরীফের পোষ্টমর্টেম রিপোর্ট পেলাম৷ "
ওসি আতিকের কথা শুনে নিল প্রশ্ন করে, " তা, কোনো তথ্য মিললো? "
" শরীফ আত্মহত্যা করা রাতে অনেকগুলো ঘুমের ঔষধ খেয়েছিল। "
" আচ্ছা! কেউ নেশা করলে কি ঘুমের ঔষধ ও খায় নাকি? "
নিল ওসি আতিককে প্রশ্ন করে। আতিক জবাব দেয়, " হ্যাঁ, খায়, তবে শরীফ শুধুমাত্র বীয়ার আর সিগারেট খেয়েছিল মারা যাওয়া রাতে। এগুলোর সাথে ঘুমের ঔষধ খাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। "
" আচ্ছা, ঠিক আছে৷ আমরা আগামীকাল কথা বলছি এই ব্যাপারে। "
বলে কল কেটে দেয় নিল৷
ফোনটা টেবিলের একপাশে রেখে নিল বলে, " শরীফ ঘুমের ঔষধ খেয়েছিল আত্মহত্যা করা রাতে। "
শুভ তার চাহনিতে অবাক ভঙ্গিমা এনে বলে, " স্যার, এটা খুন ছিল না তো? হতে পারে কেউ তাকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছে। "
নিল একবাক্যে জবাব দেয়, " হতে পারে৷ "
" স্যার, আরেকটা জিনিস মনে পড়লো আমার। বলি? "
নিল বলে, " হ্যাঁ, বলো। "
" মাসছয়েক আগের ইফাত আত্মহত্যার সমাধান করতে গিয়ে আমরা বুঝতে পারি তাকে খুন করা হয়েছিল। কারণ দুতলার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ইফাত একটা পাথরের উপর পড়েছিল তাই মারা গিয়েছে। পরে যখন আসামিদের ধরতে পারি তখন আসামিরা বলেছিল, ছাদ থেকে পড়ে মারা নাও যেতে পারে এই ভেবে আগে নিচে পাথর রেখে সেটার উপর ছুঁড়ে ফেলেছিল ইফাতকে! "
নিল স্বাভাবিক জবাব দেয়, " হ্যাঁ, মনে আছে সব।"
শুভ আবারও বলতে শুরু করে, " শরীফের ক্ষেত্রেও এমনটা হতে পারে কিন্তু। হতে পারে কেউ তাকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে নিচে একটা পাথর রেখে তিনতলার ছাদ ফেলে দিয়েছিল তাকে। "
নিল বলে, " হ্যাঁ, এটা হতে পারে। এসব নিয়ে আমরা কাল আলোচনা করব। তুমি সকাল-সকাল ঘুমিয়ে পড়ো, এগারোটায় ডেকে দিব আমি।
শুভ আর কথা বাড়ায় না। সন্ধ্যা হতেই ঘুমিয়ে পড়তে হচ্ছে তাকে, কারণ শুভ একপ্রকার ঘুম পাগল। নিল তাকে নিয়ে মাঝরাতে কোনো ঝামেলায় পড়তে চায় না তাই এই ব্যবস্থা নেয়া।
রাতদুপুর৷
বারোটা বেজে গিয়েছে সমান। রাত এগারোটায় শুভ'কে ঘুম থেকে জাগিয়ে সজীবদের বাসার কাছে আসতে আসতে বারোটা বেজে গিয়েছে। গাড়িটা একটু দূরে রেখে এসেছে গোয়েন্দা নিল, কাছে থাকলে সমস্যা হতে পারে এই ভেবে।
দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে নিল এবং শুভ। মাঝরাতে ঝিঁঝিঁ পোঁকাদের ডাকের আওয়াজটা একটু বেশি৷ সজীব থাকে বাগানের দিকে একদম কোণের রুমটায়৷ বিকালে এসে শুভ সবকিছু একদম খুটিয়ে-নাটিয়ে দেখে গিয়েছিল। দুজন গিয়ে দাঁড়ায় সজীবের রুমের জানালার পাশে৷ ভেতর থেকে কথার গুনগুন আওয়াজ আসতে দেখে শুভ জানালার একটা অংশ হালকা ফাঁক করে, গত বিকালে সে এই ব্যবস্থা করে গিয়েছিল। নিল জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে লক্ষ্য করে, সজীব খাটের উপর বসে আছে৷ জেগে আছে এখনো, আর নিজেনিজে গুঁজুর-গুঁজুর করে কী যেন বলছে৷ ভালো করে কান পেতে নিল খেয়াল করে, " আরু, তোমার চোখে প্রতিবার নিজেকে হারিয়ে ফেলি আমি৷ নিজেকে অচেনা মনে হয় তখন। "
কথাগুলো বলে সজীব সামনের দিকে হাত বাড়ায়, হাতের আঙ্গুলগুলো সামান্য নাড়ায়। মনে হচ্ছে সজীব কারোর মাথায় হাত বুলাচ্ছে।
নিল আর সময় নষ্ট না করে শুভ'কে নিয়ে বাহিরের দিকে চলে৷ শুভ নিল'কে প্রশ্ন করে, " স্যার, চলে যাচ্ছেন যে? "
নিল জবাব দেয়, " অরুণিমা মারা যাওয়াতে সজীবের মাথায় সমস্যা হয়ে গেছে৷ সে রাত জেগে নিজে-নিজে সামনে অরুণিমাকে কল্পনা করে কথা বলছে৷ "
আর কথা বাড়ায় না শুভ।
দেয়াল টপকে নিল এবং শুভ রাস্তায় এসে দাঁড়াতেই লক্ষ্য করে কেউ একজন একা হেঁটে কোথায় যেন যাচ্ছে৷ নিল খানিকটা অবাক হয়। এতরাতে কে, আর কোথায় যাচ্ছে! লোকটাকে হালকা দেখা যাচ্ছে, নিল আর শুভ পিঁছু নেয় তার। লোকটা হাঁটতে হাঁটতে এসে দাঁড়ায় রাস্তার একপাশে৷ নিল লক্ষ্য করে এটা অরুণিমা আর সাদমান খুন হওয়া সেই জায়গাটা। শুভ'কে থামতে ইশারা করে নিল এগিয়ে যায় লোকের চেহারা দেখার উদ্দেশ্যে৷ একদম কাছাকাছি গিয়ে লোকটাকে দেখতে পেয়ে নিল একদম চমকে উঠে৷ লোকটা কাদের মিয়া, অরুণিমার বাবা! তিনি এত রাতে কী করছেন এখানে?
( To be continue... )

Post a Comment

Previous Post Next Post