সেও ভালোবাসে (পর্ব-১০) অন্তিম
...
নিল এবং শুভ যখন সাদমানের রুমে প্রথমবার একটি ফ্রেমে অনেকগুলো ছেলের ছবি দেখতে পায়, ওই সময় শরীফকে ছবির ব্যাপারে প্রশ্ন করতে সে জবাব দিয়েছিল, " যারা সাদ ভাইয়ের বন্ধু তারা কেউ এই গ্রামে থাকে না। "
কথাটি মাথায় আসতেই শুভ নিল'কে প্রশ্ন করে, " স্যার, শরীফ তো বলেছিল সাদমানের সব বন্ধু ঢাকার। তাহলে মাহিন একই গ্রামের কীভাবে? "
" হয়তো মাহিনের ব্যাপারটা লুকিয়েছিল সে। "
জবাব দেয় নিল। পরক্ষণে শরীফের থেকে ফ্রেমের ছবির সম্পর্কে জানা এবং বিন্দুর রুম দেখার পর যখন ওসি আতিকের থেকে অনুমতি নিয়ে অরুণিমাদের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় তখন চেয়ারম্যান শামসুজ্জামানের কথাগুলো মাথায় আসতেই নিল চমকে উঠে। নিল শুভকে উদ্দেশ্য করে বলে, " যেদিন প্রথমবার সাদমান এবং বিন্দুর রুমে গিয়েছিলাম ওইদিন চেয়ারম্যানের ছেলে ঢাকায় গিয়েছিল! মনে আছে? "
" জ্বি স্যার। আমরা যখন আতিক স্যারের থেকে বিদায় নিয়ে অরুণিমাদের বাসার দিকে যাবো তখন চেয়ারম্যান সাহেব উনার ছেলের সাথে এমন কথাই বলছিলেন। "
নিল জবাব দেয় না আর, চুপ থাকে খানিক্ষণ। মাহিনের বাসায় গিয়ে তেমন কোনো তথ্যই মিলেনি, শুধুমাত্র সাদমান এবং মাহিনের রুমে হুবহু ছবি পাওয়া বাদে৷ তবুও ছবির ব্যাপারটি অনেক পথ এগিয়ে দিয়েছে।
তেমন আর তথ্য না পেয়ে দুজন চলছে থানার উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে কথাগুলো হচ্ছে নিল এবং শুভ'র মাঝে।
নিল'কে চুপ থাকতে দেখে শুভ আবারও বলা শুরু করে, " স্যার, একটা জিনিস খেয়াল করেছেন?"
নিল জবাব দেয়, " কী সেটা? "
" মাহিন আর সাদমান দুইজন বন্ধু৷ তবে শরীফকে খুন করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করতে কিন্তু সে বলেছিল, সবকিছুতে শরীফ সাদমান'কে তথ্য দিত যা মাহিনের পছন্দ ছিল না। এজন্যই খুন করেছে শরীফকে। বন্ধুকে নিয়ে তো এসব নেশা করাই যায় তাইনা? "
" নেশাদ্রব্যে ভাগ দেয়া নেশাখোরদের অভ্যাসে নেই হয়তো, নয়তো মিথ্যে বলেছে আমাদের৷ "
নিল জবাব দিতে শুভ হেসে বলে, " হয়তো হ্যাঁ, নয়তো না৷ "
নিলও হেসে দেয় একগাল৷ তারপর বলে, " আমার কথা নিজের মধ্যে চালিয়ে দিচ্ছো? "
শুভ বলে, " গোয়েন্দাগিরি'তে এসে তো সবকিছুই আপনার থেকে শেখা৷ "
নিল হাসে, তবে কথা বাড়ায় না। ততক্ষণে এসে পৌঁছে গিয়েছে থানায়।
থানায় ঢুকতেই নিল লক্ষ্য করে নিজ আসনে বসে আছেন ওসি আতিক৷ নিল ওসি'কে উদ্দেশ্য করে বলে, " কতটুকু এগিয়েছে আজকের খুনের ব্যাপার? "
ওসি আতিক জবাব দেন, " পোষ্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে, বিকেলের মধ্যে রিপোর্ট আসতে পারে৷ "
নিল আবারও বলে, " তাহলে এখন আমি মাহিনের সাথে কথা বলে আসি? "
" ওহ আচ্ছা! ভালো কথা মনে করিয়ে দিয়েছো৷ "
নিল মাহিনের কাছে যাবে তখন ওসি আতিক কথাটি বলেন৷ পিঁছুফিরে তাকায় গোয়েন্দা নিল। পিঁছুফিরে তাকাতে ওসি আতিক আবারও বলেন, " গতরাতে নাকি মাহিন খুব চিৎকার করছিল ভেতর থেকে৷ সে নাকি নিজের ফাঁসি চাচ্ছিলো। রাতে কর্তব্যরত কর্মীরা সকালে আমাকে বলল। "
" আচ্ছা! তাহলে কথা বলে দেখি। "
নিল চলে যায় মাহিনের সাথে কথা বলার উদ্দেশ্যে।
বিন্দু নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছে, সাথে বাধন। গত শুক্রবার বিন্দুর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল অন্য কোথাও৷ বিয়ের দুইদিন আগে যখন বিন্দু বাধনের সাথে পালিয়ে যায় ওই রাতেই খুন হয় বিন্দুর বড় ভাই সাদমান। নিজ মেয়েকে ফিরিয়ে আনবে বললেও মূলত বিন্দু তার প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়েছে এইজন্য বিয়েটা ভেঙ্গে দেয় ছেলে পরিবার৷ বিন্দুর বাবা রফিক মিয়া উনার ছেলে সাদমানের খুনি হিসেবে নিজ মনে দোষী সাব্যস্ত করেন বাধন'কে। কারণ, ওই রাতেই বিন্দুকে নিয়ে পালিয়েছিল বাধন। প্রচুর কঠোর হওয়া সত্ত্বেও ছেলে হারানোর শোকে যথেষ্ট কাতর রফিক মিয়া। মেয়েকে কাছে পেয়ে নিজেকে কঠিন করতে পারেননি। মেয়েকে গ্রহণ করে, জামাতা হিসেবে মেনে নেন বাধনকে।
" সাদমান আর তুমি যে বন্ধু সেটা গোপন করেছিলে কেন আমাদের থেকে? "
ভেতরে প্রবেশ করেই মাহিনের মস্তিষ্কে প্রশ্নটি ছুঁড়ে দেয় গোয়েন্দা নিল।
মাহিন বলে, " হামিদও মারা গেছে! আমি বাঁচবো না আর, সে আমাকেও মেরে ফেলবে। "
" কী বলছো এসব? কে মেরে ফেলবে তোমাকে? "
মাহিন ভয়ার্ত গলায় জবাব দেয়, " গতরাতে এসেছিল সে, ছাড়বে না আমাকে৷ "
" সব সত্য ঘটনা আমাকে খুলে বলো। "
মাহিন থামে কয়েক মূহুর্ত। তারপর বলে, " আসলে ওই রাতে আমরা তাকে ধর্ষণ করতে চাইনি, কিন্তু নেশায় চেপে ছিলাম তাই কী করছি বুঝে উঠতে পারিনি। "
নিল বুঝতে পারে মাহিনই সে কাঙ্ক্ষিত চতুর্থ ধর্ষক৷ নিল বলে, " তাহলে সাদমান, শরীফ, হামিদ আর তুমিই ছিলে অরুণিমাকে ধর্ষণ করা চারজন ব্যক্তি! "
" হ্যাঁ, আমরাই ছিলাম। তবে এরকমটা হবে কখনো বুঝতে পারিনি৷ "
নিল কথা ঘুরিয়ে প্রশ্ন করে, " শরীফকে খুনের ব্যাপারে মিথ্যা বলেছিলে সেদিন? "
" হ্যাঁ, মিথ্যা বলেছিলাম। শরীফ সবকিছু পুলিশকে বলে দিতে চাচ্ছিলো৷ এইজন্য তাকে বুদ্ধি করে শেষ করে দিই আমি৷ তবে শরীফের ভাগ্য ভালো, কঠিন মৃত্যু হয়নি তার। "
" শুরু থেকে সবকিছু বলো আমাকে৷ তোমাকে অরুণিমার থেকে বাঁচানোর যথেষ্ট চেষ্টা করবো আমি৷ "
নিলের অভয়বাণী শুনে মাহিন বলতে শুরু করে...
নেশার সুবাদে সাদের সাথে আমার পরিচিতি। বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া হতো আমাদের। আমি, সাদ আর শরীফ প্রায় সময় ঢাকায় যেতাম, বিশেষ কোনো আয়োজন হলে। ওই রাতে এলাকার পাশেই নেশা করেছিলাম আমি, সাদ, শরীফ আর হামিদ। মাঝরাতে হেঁটে আসছিলাম অরুদের বাসার পাশের রাস্তা দিয়ে। তখন রাস্তা পেরিয়ে পশ্চিম পাশে যাচ্ছে এমন কাউকে দেখলাম। সেটা একজন মেয়ে, দেখে আমাদের মাথায় চেপে ধরে অন্যরকম নেশা৷ চারজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করি তাকে। বিভিন্নভাবে টর্চার করি তাকে, বেঁচে থাকলে যদি কাউকে বলে দেয় এইজন্য কাজ শেষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মেরে ফেলি।
মরদেহটা প্রথমে রাস্তার পাশেই ফেলে চলে গিয়েছিলাম। তবে পরবর্তীতে সাদমান আর শরীফ গিয়ে লাশটাকে রাস্তার ঝোঁপে ফেলে দিয়ে এসেছিল।
অরুকে ধর্ষণ করার চতুর্থ রাতে সাদ খুন হলে আমরা সবাই ভয় পেয়ে যাই। আমি ঢাকায় চলে যাই বন্ধুদের কাছে। যাওয়ার আগে শরীফকে বলেছিলাম, যেন আমার আর সাদের বন্ধুত্বের ব্যাপারটা গোপন থাকে৷ কিন্তু ঢাকায় গিয়ে শান্তিতে থাকতে পারিনি৷ শরীফ কল দিয়ে বলে, সব সত্য বলে দেবে সে৷ এইজন্য আমি গ্রামে এসে তাকে শেষ করে দিই।
মাহিন থেমে যায়৷ তারপর বলে, " এরপরের বাকি সবকিছু তো আপনাদের জানা৷ "
নিল কিছু না বলে বেরিয়ে পড়ে। লক্ষ্য ওসি সাহেবের কাছে যাওয়া।
দিনের বেলায় সজীব নিজেকে বাস্তবে ধরে রাখতে পারলেও রাত্রিবেলায় হারিয়ে যায় স্বপ্ন জগতে। সেগুলোকে স্বপ্ন বললেও ভুল হবে। কারণ, পরবর্তীতে প্রতিবার সেই স্বপ্নের বাস্তবিক ব্যাখ্যা পেয়ে যাচ্ছে সজীব। প্রতি রাতে চারিপাশে অরুণিমার অস্তিত্ব উপলব্ধি করে সজীব। রাতে ঘটে যাওয়া স্বপ্নের পরিবর্তন করার কোনো চেষ্টা সজীবের নেই৷ প্রতি রাতে প্রেয়সীর এলোকেশের মন জুড়ানো ঘাণে নিজেকে হারাতে চায় সে।
ওসি আতিকের কাছে যেতে নিল'কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, " চলো, রফিক মিয়ার বাসায় যাওয়া যাক।
নিল জিজ্ঞেস করে, " কেন? "
" বিন্দু ফিরে এসেছে। সাথে তার প্রেমিক বাধন। "
তাদের সাথে দেখা করার ইচ্ছেও হয় নিলের। ওসি আতিক, নিল এবং শুভ জীপে চড়ে চলতে শুরু করে রফিক মিয়ার বাসার উদ্দেশ্যে।
রফিক মিয়ার বাসায় যেতে ওসি, নিল এবং শুভ লক্ষ্য করে বাড়িতে বেশ খুশির আমেজ। এতে তাদের বুঝতে দেরি নেই, বাসা থেকে মেনে নেয়া হয়েছে তাদের৷ ওসি আতিক ভেতরে যান রফিক মিয়ার সাথে দেখা করার জন্য৷ নিল এবং শুভ বাহিরে দাঁড়িয়ে সবকিছু লক্ষ্য করছে, তখন সজীবের বন্ধু দিপুকে বাহিরে আসতে লক্ষ্য করে নিল৷ দিপুর সাথে বাধন। সামনে আসতেই নিল বাধনকে বলে, " হেই! বাধন, কী অবস্থা তোমার? "
বাধন নিলের কথা শুনে অবাক হয় অনেক৷ বলে, " আপনি আমাকে চিনেন কীভাবে? "
" বিন্দুর গল্পের বইয়ের ভাঁজে তোমার ছবি৷ "
" ওহ আচ্ছা! তাহলে আপনি সেই ডিটেকটিভ? "
বাধনের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে মুচকি হাসে নিল। হাসি থামিয়ে বলে, " তা বিয়ে কোথায় করেছিলে? "
" ওই রাতেই, পাশের এলাকার বন্ধন কাজী অফিসে। "
বাধন কথা বলছে তখন পেছন থেকে দিপু খোঁচা দেয়া দেখে নিল হেসে বলে, " দিপু, এরকম মিথ্যে বন্ধুদের জন্য বলতে হয় কিন্তু৷ "
দিপু আর বাধন হেসে দেয় নিলের কথা শুনে।
সবার সাথে কুশল বিনিময় করে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে ওসি, নিল এবং শুভ।
জীপে বসতে বসতে নিল ওসি আতিককে বলে, " মাহিনকে কোর্টে পাঠানো হবে কবে? "
ওসি আতিক জবাব দেন, " আগামীকাল। "
" মাহিন অনেক ঝুঁকিতে আছে। রাতে তাকে লক্ষ্য রাখার জন্য স্পেশাল গার্ড রাখবেন৷ "
নিলের কথায় ওসি আতিক "হ্যাঁ" সম্মতি জানান৷
সজীব আর অরুণিমার বিয়ে হয়েছে এটা অল্প কয়েকজন বাদে এলাকার সবারই অজানা। মানুষ কখনো সবজান্তা হয় না। নিল খুনের রহস্য সমাধান করতে আসলেও সেই রহস্যের গন্ধ তার নাক পর্যন্ত পৌঁছায়নি। সবকিছুর স্থায়ী সমাধান হতে নেই, এতে রহস্য খোলাসা হয়ে যায়। কিছু জিনিস বদ্ধ রাখতে বড্ড ভালো লাগে সবার।
বিয়ের কাগজপত্র দেখে সজীবের মা সহ সজীব নিজেও চমকে গিয়েছিল সেদিন। ধীরেধীরে এটাই প্রকাশ পায় যে, স্বপ্ন দেখছে মনে হলেও আসলে এসব বাস্তবে ঘটেছে৷ তবে সবটা ঘটে থাকে স্বপ্ন দেখা ব্যক্তি অনিচ্ছায়৷
সন্ধ্যা হতেই নিলের ফোনে ওসি আতিকের কল। কল রিসিভ করতে অপরপাশ থেকে আওয়াজ আসে, " হামিদকে একদম সাদমানের মতোই মারা হয়েছে, পোষ্টমর্টেম রিপোর্টও একই! "
নিল হেসে বলে, " সকালে তো আপনাকে এটাই বলেছিলাম আমি৷ "
ওসি আর এই বিষয়ে কথা বাড়ায় না। তিনি বলেন, " আচ্ছা! পরবর্তী কেসের অপেক্ষা৷ তখন ফাঁসাবো তোমাকে। "
নিল আবারও হেসে দেয়। হাসি বিনিময়ের মাধ্যমে কল কেটে দেন ওসি আতিক।
সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো হারায় না, হারিয়ে যায় মানুষগুলো। শত ভালোবাসলেও মারা যাওয়ার পর এসে তার পূর্ণতা দেয়ার সাধ্য কারোর নেই।
রাতে খাওয়াদাওয়ার পর সজীব ছাদের বেঞ্চিটায় বসে আছে৷ অনুভূতিগুলো হুট করে অনুভব করা শুরু করে সে। মস্তিষ্কে বিরাজ করে শুধু অরুর কথা৷ মনেমনে ছন্দ মিলায় সে,
" ক্ষণে ক্ষণে মনে পড়ে
আবছা ছায়ায় হেঁটে চলে,
আসবে তুমি মনের ঘরে
বলেছিলে সময় হলে! "
অপেক্ষা করে সজীব। অরুণিমা তার দেয়া কথা রাখবে এই আশায়। সজীবের কানে ভেসে আসে, " আমি ওইরাতে আপনার কাছে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওরা আমায় আসতে দেয়নি। "
পরক্ষণেই সজীবের নাক ঘেঁষে বয়ে যায় মাতাল করা সেই ঘ্রাণ।
মাঝরাত।
মাহিনের খেয়াল রাখার জন্য আলাদাভাবে আরও পুলিশ দেয়া হয়েছে।
মাহিন চিৎকার করে উঠ কিছুক্ষণ পরপর। সে নিজের ফাঁসি কামনা করে সবার কাছে। আলো জ্বালানো থাকবে সারারাত। হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকানো, মাহিন চিৎকার দিয়ে বলে উঠে, " সে এসে গেছে৷ "
বিদুৎ চলে যায়, হাতে থাকা টর্চগুলো কাজ করে না কারোর। বিদ্যুৎ নেই, তবুও মাহিনের চিৎকারের আওয়াজ পাচ্ছে না কেউই৷ হয়তো ভয়ে চুপসে আছে সে।
বিদ্যুৎ আসতেই ভেতরে তাকাতে পুলিশেরা চমকে যায় একদম৷ ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে মাহিনের দেহ! গলায় অরুণিমার কাপড় টানানো সেই চিকন দড়িটা!
পরদিন সকালেই সারা এলাকা রটিয়ে পড়ে, অরুর আত্মা তার খুনিদের উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছে। তবে সজীব তা বিশ্বাস করলেও রাত্রিবেলায় সেই বিশ্বাসের সাথে 'অ' যুক্ত হয়ে যায়, যেভাবে অরুর নামের সাথে "আকার" জুড়ে দিয়ে আরু বলে ডাকত। রাতে হলে সজীবের বিশ্বাসই হয় না, অরুণিমা বেঁচে নেই।
কারণ এখনো মাঝেমাঝে মাঝরাতে নিজের খুব কাছে কারোর গরম শ্বাস উপভোগ করে সজীব। হয়তো খানিকক্ষণ বাদে কেউ জড়িয়ে ধরবে তাকে। কারণ, সেও ভালোবাসে।
( সমাপ্ত)