সেও ভালোবাসে (সমাধান পর্ব)
...
ধর্ষণ করে খুন করা হয় অরুণিমাকে। সে সজীবকে ভালোবাসে, তবে প্রকাশ করতে পারেনি কখনো। তাই খুন হওয়া রাতেই স্বপ্নের মাধ্যমে বিয়ে করে সজীবকে। বিয়েতে সাক্ষী কিংবা কাজী যারা ছিল সবাই একই স্বপ্ন দেখেছিল সেদিন।
তারপর আসি সজীবের কাছে। সে যতবার ফজরের আজানের শব্দে জেগে উঠেছে ততবারই বুঝতে পেরেছে, যা ঘটেছে তা স্বপ্ন ছিল না। এমনকি একবার স্বপ্নের মাধ্যমে অরুণিমার সাথে ছাদে যায়, ফজরের সময় নিজেকে ছাদে আবিষ্কার করে সেদিন।
সজীবের মা স্বপ্নের মাধ্যমে অরুণিমার থেকে তাদের বিয়ের কাগজপত্র নিলেও সকালে উঠে টেবিলে সেই কাগজ দেখে চমকে যান। সজীবের সাথে ঘটে যাওয়া সত্য স্বপ্নের ন্যায় আসলেই কি সে বিয়ে সত্যিকারের ছিল? হ্যাঁ, অরুণিমা যতটা মানুষের স্বপ্নে এসেছে তারা সবাই-ই ঘটে যাওয়া স্বপ্নের বাস্তব কিছু দেখেছিল৷ সজীবের হাতের কামড়, তার মায়ের কাছে বিয়ের কাগজপত্র, নিলের বারান্দায় সেই ফুলের টব এসবের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় ব্যক্তির সেটা স্বপ্ন মনে হলেও আসলে সবকিছু সত্যি ছিল৷ ঠিক সেভাবে সত্যিকারের বিয়ে হয়েছিল সে রাতে।
Point to be noted... গল্প যদি মনযোগ দিয়ে পাঠকেরা পড়তো, তাহলে আমাকে কখনোই প্রশ্ন করতো না, " অরুণিমার বিয়ে স্বপ্নে হলে বিয়ের কাগজগুলো কীভাবে আসলো? "
উত্তরটা উপরে পাবেন, নাহয় গল্পটা ভালো করে আবার পড়ুন।
এবার আসি অরুণিমার ওই মাঝরাতে কেন বের হয়েছিল?
আবারও বলি, পাঠকেরা মনযোগ দিয়ে গল্পটা পড়েনি৷ এই প্রশ্নটা করে তারা গল্পে অমনোযোগী সেটা আমায় দেখিয়েছে। গল্পের এক অংশে আছে, গোয়েন্দা নিল অরুণিমার বাবার সাথে কথা বলছিল৷ তখন অরুণিমার বাবা কাদের মিয়া বলেন, "খুন হওয়ার আগের সজীবের ব্যাপারে জানাতে মেয়েকে আমি অনেক বকা দেই৷ সেই বকা কারণে অরুণিমা বলেছিল, সে নিজেকে শেষ করে দিবে। "
আসুন এবার, মাঝরাতে কেন বের হয়েছিল সেটা বুঝতে পেরেছেন? না বুঝতে পারলে গল্পটা আবার পড়ে নিন।
আবার আসুন, অরুণিমা কেন রাস্তা পেরিয়ে রাস্তার পশ্চিমে যাচ্ছিল? এই প্রশ্নটা অনেকে করেছেন৷
প্রথম পর্বের বর্ণনায় আছে, রাস্তার পূর্বপাশে অরুণিমার বাসা, পশ্চিম পাশে সজীবের বাসা। তার প্রায় পঞ্চাশ ফিট দক্ষিণে রাস্তার ধারে পাওয়া যায় অরুণিমার মরদেহ৷
আবারও প্রশ্ন করুন, রাস্তার পশ্চিমে কেন গিয়েছিল?
Point to be noted... শেষ পর্বে সজীবের কানে অরুণিমার কণ্ঠে কি ভেসে আসেনি? " আমি ওইরাতে আপনার কাছে আসতে চেয়েছিলাম৷ কিন্তু ওরা আমায় আসতে দেয়নি। "
আশা করি উত্তরটা পেয়েছেন।
আরেকটা কমন প্রশ্ন পাঠকদের,
মিল তো দেয়া হয়নি!
আমার উত্তর > কী ভাই! মরা মানুষের সাথে গল্পের মিল দিবো? স্বপ্নের জিনিসগুলো স্বপ্নেই থেকে যায়। অদ্ভুত কিছু ঘটলেও সেটা অগোচরেই রয়ে যায়।
এবার আমার মন্তব্য...
গল্পটা শেষ পর্বে তাড়াহুড়ো করে শেষ করেছি এইজন্য শেষটা ভালো লাগেনি সবার কাছে।
একটা গল্প লিখতে গেলে সেই বিষয়ে অনেক চিন্তা করতে হয়। প্রতিটা শব্দে, প্রতিটা বাক্যে, প্রতিটা পর্বে এমনকি শেষটাও কল্পনায় রাখতে হয় আমাদের৷
বেশি পর্ব দিচ্ছি তাই পাঠকেরা তাদের ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে। আপনারা না দেখলেও সেটা আমি দেখতে পাচ্ছি।
গল্পটা ফিঁকে লাগার কারণ, বেশ কিছু রহস্য রেখেই রহস্য গল্পের সমাধান করে দিয়েছি৷ যদিও শেষ পর্বে রহস্য বাকি থাকাটাও একটা রহস্য বলে সবাইকে সান্ত্বনা দিয়েছিলাম।
বলি কী ভাই, আপনি আমার থেকে দশ ফিট দূরে দাঁড়িয়ে আছেন। এখন আপনার কাছে আমি যাবো কীভাবে?
চাইলে বরাবর আপনার কাছে যেতে পারি, আবার চাইলে ডানদিকে ফিরে দশ কদম হেঁটে আবার বামে ঘুরে দশ ফিট হেঁটে তারপর আবার বামে ঘুরে দশ কদম হেঁটে আপনার কাছে যেতে পারি৷ ঠিক এমনটাই হয়েছে গল্পে।
তাড়াতাড়ি গল্প শেষ করতে গিয়ে সোজা চলে গিয়েছি গল্পের মূল বিষয়গুলোতে। এজন্যই গল্পের শেষটা অনেকের ভালো লাগেনি।
আশা করি, গল্প শেষে সবগুলো প্রশ্নের উত্তর আপনারা পেয়েছেন। মানুষ মাত্রই ভুল, আমারও ভুল থাকতে পারে৷
ধন্যবাদ সবাইকে।