সেও ভালোবাসে (পর্ব-০৮)

সেও ভালোবাসে (পর্ব-০৮)
...
প্রথমে ধর্ষণ তারপর খুন হলো অরুণিমা। তাদের বাসা থেকে প্রায় পঞ্চাশ ফিট দূরে রাস্তার ধারে অরুণিমার লাশ পাওয়া যায় পরদিন সকালে। তার ঠিক চারদিন পর পাঁচদিনের মাথায় সেই একই জায়গায় পাওয়া যায় এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী সাদমানের লাশ৷ খুব হিংস্রভাবে মেরে ফেলা হয় তাকে। হাত বেঁধে দেয়া দাগে পাওয়া যায় অরুণিমার রুমে কাপড় টানানোর দড়ির ছাপ, যেটা নিয়ে ধর্ষণ হওয়া রাতে বেরিয়েছিলো অরুণিমা। তবে ফাঁসি দেয়নি সে, পরদিন সকালে ঘরের কোণে জাম গাছটার গোড়ায় পাওয়া যায় সেই দড়ি। অবাক করা বিষয় হলো অরুণিমা খুন হওয়ার পর থেকে দড়িটা পুলিশ হেফাজতে ছিল, তবে পাঁচদিন পর খুন হওয়া সাদমানের হাতে সেই দড়ির ছাপ আসলো কী করে? আরেকটা বিষয়, সাদমানের ডান চোখ বিঁধে দেয়া আমের সরু ডালে অরুণিমার হাতের ছাপ পাওয়া গিয়েছে, পাঁচদিন আগে মরে যাওয়া মানুষটার হাতের ছাপ এই ডালে আসলো কীভাবে? সাদমান খুন হওয়ার কয়েকদিনের মাথায় মারা যায় শরীফ। সবার মতে, শরীফ ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করে। তাহলে শরীফের বুকপকেটে থাকা চিঠির লেখা চেয়ারম্যানের ছেলে মাহিনের হাতের লেখার সাথে হুবহু মিল, সেটা সম্ভব কীভাবে? তাহলে মাহিন খুন করেছে শরীফকে! ধরে নিই শরীফ খুন হয়েছে, তবে খুন হওয়া রাতে খাওয়া ঘুমের ঔষধের হুবহু ঔষধ পাওয়া গিয়েছে রফিক মিয়ার রুমে৷ তাহলে কি রফিক মিয়ার হাত আছে মাহিনের সাথে? এসব চিন্তায় কোনো কিছুতেই কাজ করছে না গোয়েন্দা নিল এবং ওসি আতিকের মাথা৷ তার উপর আবার আরেকটা নতুন আত্মহত্যা, সুমনের ফাঁসি দেয়া৷ মৃত্যুর আগে লেখা চিঠি সাক্ষী দেয়, অরুণিমার ধর্ষণ এবং খুনের পেছনে জড়িত গত কয়েকদিনে মারা যাওয়া সাদমান এবং শরীফ। তবে ডিএনএ টেষ্ট বলে, অরুণিমাকে ধর্ষণ করেছে চারজন। তাহলে বাকি দুইজন কারা? আর তারা কোথায় আছে এখন!
সবগুলো প্রশ্ন একত্রে ঘুরপাক খাচ্ছে ওসি আতিক এবং গোয়েন্দা নিলের মাথায়৷ কারণ, আসামীদের ধরার দায়িত্ব এখন তাদেরই হাতে।
সুমনের মরদেহ পোষ্টমর্টেমের জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয়৷ ওসি আতিককে নিয়ে নিল এবং শুভ চলে কাদের মিয়ার বাড়ির উদ্দেশ্যে৷ গতরাতে দেখা কাহিনীর সমাধান করা এখন তাদের উদ্দেশ্যে।
" অরুণিমা এবং সাদমানকে খুন করার পেছনে আপনার হাত রয়েছে৷ সেজন্য আপনাকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হচ্ছি। "
ওসি আতিকের মুখে এমন কথা শুনে একপ্রকার হকচকিয়ে উঠে কাদের মিয়া৷ সাধারণত পুলিশদের অভ্যাস এরকমই, সোজাসুজি দোষ চাপিয়ে দেয় সন্দেহভাজন ব্যক্তির দিকে৷
কাদের মিয়া জবাব দেয়, " কী বলছেন এসব! নিজের মেয়েকে খুন করতে যাবো কেন আমি? "
" সেটা আপনি জানার কথা। তবে এটা বলুন, অরুণিমা এবং সাদমান খুন হওয়া জায়গায় মাঝরাতে আপনি কী করেন? "
কাদের মিয়া বেশ অবাক হয়ে উল্টো প্রশ্ন করে, " হ্যাঁ, মাঝরাতে আমি ওখানে গিয়েছি৷ তবে সেটা আপনি জানলেন কীভাবে? "
ওসি আতিক জবাব দেয়, " সবাই আমার দুটো চোখ দেখে ঠিকই, তবে আমার পেছনে যে আরও চারটি চোখ আছে সেটা কেউ জানে না৷ "
ওসি আতিকের এমন কথা শুনে মুচকি হাসে গোয়েন্দা নিল। পাশে থাকা শুভ মনেমনে বলে, " ব্যাটা পুলিশ, চারটি চোখ বলতে আমার আর নিল স্যারের কথা বললো না তো! "
কাদের মিয়া ওসি আতিকের প্রশ্নের জবাব দেয়, " হ্যাঁ, আমি মাঝরাতে ওইখানে যাই৷ কারণ,প্রতিটা মূহুর্ত মেয়ের রক্তাক্ত চেহারা ভেসে উঠে আমার চোখের সামনে৷ তাছাড়া, প্রতিরাতে অরু আমার স্বপ্নে আসে৷ তার কান্না যুক্ত চোখ আমি সহ্য করতে পারি না৷ অরু চিৎকার দিয়ে বলে, বাবা, আমি ওই চারজনের কঠোর এবং আরও নিকৃষ্ট মৃত্যু চাই আমি। মেয়ের কান্নারত অবস্থা আর এভাবে চলে যাওয়াটা এখনো মেনে নিতে পারিনি আমি। তাই মাঝেমধ্যে বাহির থেকে ঘুরে আসি আমি, গতরাতে আপনার ওই চার চোখ যেখানে দেখেছিল সেখানেও যাওয়া হয় আমার৷ "
ওসি আতিক আর কী বলবেন ভেবে পাচ্ছে না৷ নিল মনেমনে ভাবছে, " এই অরুণিমা কি সবার স্বপ্নেই আসে নাকি! "
তেমন কোনো প্রমাণ না থাকায় কাদের মিয়াকে গ্রেফতার করেনি ওসি আতিক৷ বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে তারা, এখন উদ্দেশ্য রফিক মিয়ার বাসা৷
সজীব ভোরেই গোসল করেছিল আজ৷ ফজরের সময় বৃষ্টির ফোটায় যখন তার ঘুম ভাঙে, তখন সে বেশ অবাক হয়৷ কারণ, প্রতি রাতে অরুণিমাকে স্বপ্নে দেখে সজীব৷ স্বপ্নেই তো অরুণিমার সাথে চাঁদ দেখতে ছাদে এসেছিল সে, তাহলে এখন ছাদে কীভাবে? এসব প্রশ্ন ভাবতে ভাবতে প্রায় পুরো শরীর ভিজে যায় তার। যার কারণে ভোরেই গোসল সেরে নিয়েছিল সজীব।
ফাঁসি দিয়েছে শুনে সজীব সুমনের বাসায় গেলেও বেশিক্ষণ থাকার ক্ষমতা ছিল না তার। অল্প কিছুক্ষণ হয়েছে বাসায় ফিরেছে সে৷ এসে বিছানার একপাশে গা এলিয়ে দেয় সজীব৷ আর ভাবতে শুরু করে, " সুমন আরুর ব্যাপারে কিছু বলতে গিয়েও থেমে গিয়েছিল৷ তাহলে সে কি আরুর মৃত্যুর সব রহস্য জানতো? "
সজীবের মাথায় এসব চিন্তা বেশিক্ষণ কাজ করে না৷ পরক্ষণে আবার ভাবতে শুরু করে অরুণিমার কথা...
গতরাতে আরুর সাথে ঘটে যাওয়া কোনো কিছুই স্বপ্ন ছিল না৷ তাহলে কি প্রতিরাতের সবকিছুই বাস্তবে ঘটেছিল? মা'কে সালাম করা সেই স্বপ্ন! সেই রাতেও তো আম্মুও দেখেছিল একই স্বপ্ন৷ আরে! সবকিছু যদি সত্যি বাস্তব হয়ে থাকে তাহলে আরুকে বিয়ে করেছি সেটাও কি বাস্তব ছিল?
প্রশ্নগুলো নিজেই নিজেকে করে সজীব, তবে কোনো উত্তর খুঁজে পায় না সে।
" শরীফ আত্মহত্যা করেনি, তাকে খুন করা হয়েছে। "
ওসি আতিকের মুখে এমন কথা শুনে চমকে যায় রফিক মিয়া। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, " এটা কীভাবে সম্ভব? "
ওসি আতিক জবাব দেন, " শরীফকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেয়া হয়েছিল।"
রফিক মিয়া আরো অবাক হয়। বলে, " তাহলে খুনিদের খুঁজে বের করুন। "
" আপনি খুন করেছেন শরীফকে৷ "
নিল একবাক্যে রফিক মিয়াকে বলে। রফিক মিয়া ভয়ে ঢুক গিলে কয়েকবার৷ নিল আবারও বলে, " শরীফের পেটে যে ঘুমের ঔষধ পাওয়া যায়, সেগুলোর নাম ছিল ডিসিপ্লিন-২৷ আর এই ঔষধের প্যাকেট আপনার রুমে পাওয়া গিয়েছে৷ "
রফিক মিয়া এবার বেশ অবাক হয়ে বলে, " আরে, এগুলো তো আমারই ঔষধ ছিল৷ শরীফ খুন হওয়ার পরদিন ঘুমের ঔষধের প্যাকেটটা খুঁজে পাচ্ছিলাম না, সাদের রুমে পেয়ে প্যাকেটটা নিয়ে আসি আবার৷ "
নিল মনেমনে ভাবে, " হতে পারে ঘুমের ঔষধ শরীফ নিয়ে গিয়েছিল, খুন হওয়ার আগে। তবে খুনি কে বা কারা? রফিক মিয়া শরীফকে খুন করবে না তার নিশ্চয়তা আশি ভাগ, যদি খুন করে তার সম্ভাবনা বিশ ভাগ। শরীফকে রফিক মিয়ার খুন করার তেমন কোনো কারণই তো দেখছি না আমি৷ "
নিল কথাগুলো ভাবছে তখন ভাবনায় ছেদ ঘটিয়ে ওসি আতিক বলে উঠে, " কী করবে এখন? "
" চিঠির মাধ্যমে প্রমাণ হয় শরীফ আত্মহত্যা করেনি, খুন হয়েছে সে৷ আমাদের নিশানা এখন মাহিন। যদি শরীফ খুন হয় তাহলে সেই খুনের পেছনে মাহিনের হাত আছে আমি নিশ্চিত। "
নিলের কথা শুনে ওসি আতিক বলেন, " তো, যাওয়া যাক চেয়ারম্যানের বাসায়৷ "
নিল আর কথা বাড়ায় না৷ রফিক মিয়ার বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে ওসি আতিক, নিল এবং শুভ৷ উদ্দেশ্য এবার মাহিনের কাছে যাওয়ার।
গাড়িতে উঠতেই নিল ওসি আতিককে বলে, " বাসায় গিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না, গ্রেফতার করে নিন৷ যা প্রশ্ন করার থানায় যাওয়ার পর আমি করবো৷ "
নিলের কথায় মুচকি হেসে সম্মতি জানান ওসি আতিক৷
সজীবের মা রেহানা বেগম সকাল থেকেই বেশ চিন্তিত। কারণ সকালে ঘুম থেকে উঠে রুমের টেবিলের উপরে তিনি কয়েকটা কাগজ পান। কাগজগুলোতে চোখ বুলিয়ে সেই যে অবাক হয়েছেন, এখনো কিছুতেই নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না তিনি। সেগুলো সজীব আর অরুণিমার বিয়ের কাগজপত্র! মিসেস রেহানা গতরাতে স্বপ্নে দেখেন, অরুণিমা উনাকে সালাম করে কয়েকটা কাগজ হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলেছে, " এগুলো আমার আর সজীবের বিয়ের কাগজ৷ আমার তো আর রাখার জায়গা নেই, আপনি একটু সাবধানে রাখবেন৷ "
তিনি স্বপ্নের মাধ্যমেই কোনো কথা না বলে কাগজগুলো টেবিলের উপর রেখেছিলেন৷ সকাল হতেই কাগজগুলো দেখে রেহানা বেগম চমকে উঠেন৷ তিনি মনেমনে নিজেকে প্রশ্ন করেন, " তাহলে কি এটা সত্যি ছিল? "
উত্তর মিলেনি আর৷ বিয়ের তারিখ মিলিয়ে রেহানা বেগম আরো অবাক হন৷ অরুণিমা মারা যাওয়া দিনের সাথে তারিখের একদম মিল! এসব দেখে সারাদিন আর কিছু ভাবতে পারছেন না রেহানা বেগম৷ তিনি সজীবকে নিয়ে বেশ চিন্তিত এখন।
মাহিন'কে গ্রেফতার করতে গিয়ে তাকে দেখে চেনা-চেনা লাগে গোয়েন্দা নিলের, কোথায় যেন দেখেছে তাকে৷ গ্রেফতার করে হাজতে পাঠানো হয় মাহিনকে৷ গোয়েন্দা নিল যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য৷ সামনের চেয়ারটা টেনে বসতে বসতে টেবিলের উপর শরীফ থেকে পাওয়া চিঠিটা রেখে বলে, " এই চিঠিটা তো তোমার লেখা তাইনা? "
মাহিন লেখাটা দেখে খানিকটা অবাক হয়৷ তারপর বলে, " এটা যে আমার লেখা তার প্রমাণ কী? "
নিল জবাব দেয়, " তোমার বাবা'কে লিখে দেয়া সেই বন্ধুর ঠিকানা, যেটা তুমি লিখেছিলে। ওটার হাতের লেখার সাথে এটা হুবহু মিল। "
মাহিন বলে, " শরীফ তো আত্মহত্যা করেছে৷ সে আমার হাতের হুবহু লেখা চিঠি কোথায় পেল সেটা আমি জানি না। "
" শরীফ আত্মহত্যা করেনি, তাকে খুন করা হয়েছে। "
নিলের কথা শুনে মাহিন একপ্রকার জেদের সাথে বলে, " তো খুনিকে খুঁজে বের করেন। আমাকে এনেছেন কেন? "
" খুনিকেই এনেছি৷ কারণ, খুনি তুমি নিজেই৷ "
মাহিন একপ্রকার ভড়কে যায়৷ তারপর রাগের সাথে বলে, " প্রমাণ আছে কোনো? অযথা কাউকে খুনি বানাবেন না। "
" শরীফ খুন হওয়া রাতে বাসার বারান্দায় এবং সিঁড়ির আশেপাশে তোমাকে ঘুরতে দেখেছেন রফিক মিয়া। "
কথার জালে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যে বলে গোয়েন্দা নিল৷ মাহিন এবার চুপসে যায়। মনেমনে ভাবে, " আসলে আমিই তো খুন করেছি৷ ধরা পড়ে গেলাম! "
তারপর মাহিন নিজের দোষ স্বীকার করে বলে, " হ্যাঁ, আমিই শরীফকে খুন করেছি৷ "
নিল প্রশ্ন করে, " কেন খুন করলে শরীফকে? "
" শরীফের সাথে আমার আলাদা শত্রুতা ছিল৷ সে আমাকে প্রতিটা কাজে বাধা দিতো৷ বিভিন্ন জায়গায় আমার জিনিসে ভাগ বসাতো শরীফ। এইজন্য তাকে আমি খুন করে দিই৷ "
নিল জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চেয়ে বলে, " বিভিন্ন জিনিস? বুঝলাম না! "
" বিভিন্ন প্রকারের ড্রাগ নেয়ার অভ্যাস আছে আমার। কোথায় কী করছি সবকিছুর তথ্য সে সাদ'কে দিতো। যা আমার একদম পছন্দ ছিল না। "
নিল বুঝতে পারে, কেন খুন করেছে শরীফকে৷ তারপর জানতে চায়, " আচ্ছা, কীভাবে বাসায় ঢুকলে? আর কীভাবেই খুন করলে? "
মাহিন বলতে শুরু করে, " শরীফের মাধ্যমেই লুকিয়ে বাসায় প্রবেশ করি, নেশা করার জন্য৷ তবে মূল উদ্দেশ্য ছিল তাকে খুন করা৷ আগে থেকে বলে রাখি, আমার কিছু ঘুমের ঔষধ লাগবে ড্রিংকস বানাবো একদিন৷ আমার কথা শুনে দিনের বেলাতেই রফিক চাচার ঘুমের ঔষধগুলো নিয়ে নিজের কাছে রেখে দেয় শরীফ৷ তারপর আর কী৷ একসময় মাতাল অবস্থায় শরীফকে কয়েকটা ঘুমের ঔষধ খাইয়ে দিই৷ জ্ঞান হারানোর পর বাসা থেকে লিখে আনা চিঠিটা তার শার্টের পকেটে ঢুকিয়ে দিই। তারপর ছাদে নিয়ে যাই, ফেলে দিব এইজন্য। এতে সবাই মনে করবে আত্মহত্যা করেছে, আমিও ফাঁসবো না৷ ছাদ থেকে ফেলতে গিয়ে দেখি নিচে একপাশে একটা পাথর আছে। সেই পাথরটার উপর তাকে ফেলে দিই, যাতে নিশ্চিত মৃত্যু হয়। "
নিল মনযোগী হয়ে মাহিনের কথাগুলো শুনে। তারপর চিঠির কথা মাথায় আসতে আবারও প্রশ্ন করে, " আচ্ছা! চিঠিটায় অরুণিমার ব্যাপারে লিখলে কেন? "
মাহিন স্বাভাবিক উত্তর দেয়, " কারণ, এরকম লিখলে সবাই ভাববে শরীফ সাদের মতো ভয়ানক মৃত্যুর ভয়ে আত্মহত্যা করেছে৷ "
নিল আর কথা না বাড়িয়ে বের হয়ে পড়ে সেখান থেকে। পরে আবার সময় করে আরো প্রশ্ন করা যাবে, যদি মাথায় আসে তো। নিল নিজেকে কিছুটা নিশ্চিন্ত অনুভব করে। যাইহোক, একটা খুনের সমাধান তো পাওয়া গেল!
রেহানা বেগম সজীব আর অরুণিমার বিয়ের কাগজগুলো হাতে নিয়ে বসে আছেন।
" খুন হওয়া রাতে বিয়ে করেছে সজীব আর অরু! "
কথাটি মনে আসতেই রেহানা বেগমের মাথায় অন্য ভয় প্রবেশ করে। মনেমনে নিজেকে প্রশ্ন করেন, " অরুর খুনের পেছনে সজীবের হাত নেই তো আবার? "
কোনো উত্তর পান না। রাগ চড়ে বসে রেহানা বেগমের মাথায়। রেহানা বেগম ছুটে চলেন সজীবের রুমের দিকে৷ রুমে গিয়ে সজীবের উপর কাগজগুলো ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, " তোরা বিয়ে করে ফেলেছিলি? "
সজীব কাগজগুলোতে লক্ষ্য করে। বিয়ের কাগজপত্র দেখে সজীব হতবাক হয়৷ মনেমনে বলে, " এটা কী করে সম্ভব! "
তারপর অল্প আওয়াজে তার মা'কে বলে, " আরু'কে তো আমি স্বপ্নে বিয়ে করেছিলাম। তাহলে এসব কাগজপত্র আসলো কোথা থেকে! আমি কিছুই বুঝতে পারছি না আম্মু। "
( To be continue... )

Post a Comment

Previous Post Next Post